লোগো

    ক্যাডেট কলেজ মডেলে দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনে ৬০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান করার পরিকল্পনা, সবগুলো হবে আবাসিক, শুরু হবে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে

    নিজস্ব সংবাদদাতা ০৭ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৫ এএম

    ক্যাডেট কলেজের আদলে দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনে ৬০০টি আবাসিক মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে সরকার। প্রতিটি আসনে ছেলেদের জন্য একটি ও মেয়েদের জন্য একটি করে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘নির্ধাচিত এলাকাসমূহে ৬০০টি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ নির্মাণ প্রকল্প’ নামের একটি প্রাথমিক খসড়া প্রস্তাব তৈরি করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

    ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে পাঁচ বছর মেয়াদী এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৬৮ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে, যার জন্য বৈদেশিক ঋণসহায়তা নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে। সম্পূর্ণ আবাসিক এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে মূলত ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।

    মাউশির প্রস্তাবনা অনুযায়ী, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রায় তিন একর জমি প্রয়োজন হবে, যার ভূমি অধিগ্রহণে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা।

    এছাড়া ২৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৬০০টি ১০ তলাবিশিষ্ট আধুনিক একাডেমিক ভবন, ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৬০০টি ছাত্র ও ছাত্রীবাস এবং ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬০০টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে খসড়াটিতে।

    মূলত সরকারি পর্যায়ে ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ গড়ে তুলে অনগ্রসর, গ্রামীণ ও অবকাঠামোগতভাবে পিছিয়ে থাকা এলাকার মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বৈষম্যহীন ও প্রযুক্তিনির্ভর উচ্চমানের শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

    এই পরিকল্পনা প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের সরকারি ব্যবস্থাপনায় বেসরকারি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের মতো উচ্চমানের শিক্ষার সুযোগ করে দেওয়াই এর লক্ষ্য, তবে নতুন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বিদ্যমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার মানোন্নয়নেও সরকার সমান গুরুত্ব দিচ্ছে।

    ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন
    ২০২৬ সালের সর্বশেষ খবর

    মাউশির মহাপরিচালক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ উল্লেখ করেন, পিছিয়ে থাকা এলাকায় মানসম্মত শিক্ষার আলো ছড়ানোই প্রধান লক্ষ্য হলেও চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে প্রকল্পের ব্যয়, প্রয়োজনীয়তা ও সম্ভাব্যতা নিবিড়ভাবে বিবেচনা করা হবে।

    অন্যদিকে শিক্ষাবিদেরা অতীতে মডেল স্কুল প্রকল্পের আশানুরূপ ফল না পাওয়ার অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিদ্যমান বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকসংকট ও শিখনঘাটতি দূর করার ওপর জোর দিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ মাহবুব মোর্শেদ বাস্তবতার নিরিখে বলেন, সব এলাকায় ঢালাওভাবে না করে হাওর, চর বা দুর্গম অঞ্চলের মতো নির্দিষ্ট সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় এই আবাসিক মডেল স্কুল গড়ে তুললে এবং সামগ্রিক শিক্ষা খাতকে সামনে রেখে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা সাজালে সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হবে।

    সূত্র: প্রথম আলো।

    আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...