বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের জন্য আর ব্যক্তিগত ফোন নম্বর প্রকাশ বাধ্যতামূলক থাকবে না। মেটার মালিকানাধীন এই প্ল্যাটফর্মে শিগগিরই যুক্ত হচ্ছে নতুন একটি ফিচার, যার মাধ্যমে ফোন নম্বরের পরিবর্তে অনন্য (ইউনিক) ‘ইউজারনেম’ ব্যবহার করা যাবে।
গত সোমবার মেটা আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেয়। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, ব্যবহারকারীদের ফোন নম্বরের গোপনীয়তা রক্ষা এবং নিরাপত্তা আরও জোরদার করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে বা কোনো গ্রুপ চ্যাটে যোগ দিতে ফোন নম্বর ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। তবে নতুন আপডেট চালু হলে ব্যবহারকারীরা নিজেদের পছন্দমতো একটি অনন্য ইউজারনেম তৈরি করতে পারবেন।
এক বিবৃতিতে হোয়াটসঅ্যাপ জানিয়েছে, ‘এই ফিচারটি মূলত আপনার ফোন নম্বরের গোপনীয়তা রক্ষা করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। আপনি কার সঙ্গে নিজের ফোন নম্বর শেয়ার করবেন, তা এখন সম্পূর্ণ আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকবে।’
নতুন ব্যবস্থায় কোনো ব্যবহারকারী বড় কোনো গ্রুপ চ্যাটে যুক্ত হলে বা প্রথমবার কোনো ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে অপর প্রান্তের ব্যক্তির কাছে তার ফোন নম্বর স্বয়ংক্রিয়ভাবে দৃশ্যমান হবে না।
মেটা জানিয়েছে, অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মতো হোয়াটসঅ্যাপে ইউজারনেম খোঁজার জন্য কোনো উন্মুক্ত ডিরেক্টরি বা স্বয়ংক্রিয় সাজেশন থাকবে না।
ফলে কোনো ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করতে হলে তার সঠিক ইউজারনেম জানতে হবে। সঠিক ইউজারনেম জানা না থাকলে কাউকে খুঁজে পাওয়া বা অনাকাঙ্ক্ষিত বার্তা পাঠানো সম্ভব হবে না। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে স্প্যামিং ও অনাকাঙ্ক্ষিত হয়রানির ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে হোয়াটসঅ্যাপের সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৩০০ কোটির বেশি। বিপুলসংখ্যক ব্যবহারকারী থাকায় অনেকেই হয়তো নিজেদের প্রথম পছন্দের ইউজারনেমটি পাবেন না।
মেটা জানিয়েছে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে পর্যায়ক্রমে বিশ্বজুড়ে ইউজারনেম বুকিং বা রিজার্ভেশন সুবিধা চালু করা হবে। প্রতিটি দেশে সুবিধাটি চালু হলে ব্যবহারকারীদের অ্যাপের নোটিফিকেশনের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।
তবে কনটেন্ট ক্রিয়েটর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন সংস্থাকে এ ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তারা ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে ব্যবহৃত একই ইউজারনেম হোয়াটসঅ্যাপেও আগেভাগে দাবি বা ‘ক্লেম’ করার সুযোগ পাবেন।
এই ফিচারটি হোয়াটসঅ্যাপের অন্যতম বড় নিরাপত্তা আপডেট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে নারী, মানবাধিকারকর্মী এবং বিভিন্ন পেশার মানুষের জন্য এটি কার্যকর হবে, যারা ব্যক্তিগত ফোন নম্বর প্রকাশ না করেই পেশাগত যোগাযোগ বজায় রাখতে চান। একই সঙ্গে ব্যবহারকারীদের পছন্দের ইউজারনেম দ্রুত বুকিং করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে নামসংক্রান্ত বিভ্রান্তি এড়ানো যায়।